১২ বছরেও বিচার পাননি, শিক্ষকের স্ত্রীর আর্তনাদ

টেকনাফে শিক্ষক হত্যার ১২ বছরেও বিচার হয়নি, কাঁদছেন স্ত্রী, হুমকি দিচ্ছে আসামিরা

প্রকাশ: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:১২ , আপডেট: ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০১:২৩

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


মোঃ আরাফাত সানি, টেকনাফ;

একজন মানুষ গড়ার কারিগরকে পিটিয়ে হত্যার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও বিচার পাননি নিহত কলেজ শিক্ষক শামসুল আলমের পরিবার। বরং বিচার চাইতে গিয়ে এবার প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন নিহত শিক্ষকের স্ত্রী ও সন্তানরা।

বলছি টেকনাফের শিক্ষা অঙ্গনের পরিচিত মুখ, টেকনাফ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সবার প্রিয় ও সদা হাস্যোজ্জ্বল সহকারী অধ্যাপক শামসুল আলমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা।

২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর। একটি সালিশি বৈঠকের কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় নিরীহ এই শিক্ষককে। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিক্ষক। সেদিন শুধু একজন শিক্ষকই প্রাণ হারাননি, শোকের ছায়া নেমে এসেছিল টেকনাফের শিক্ষাঙ্গনে, স্বজন ও অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী দিলসাদ বেগম বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

নিহতের স্ত্রী দিলসাদ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিবিএনকে বলেন, “আমার স্বামীকে যারা প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তারা আজও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ১২ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু আজও বিচার পেলাম না। এখন উল্টো মামলা তুলে নিতে আমাকে ও আমার সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশাসনের কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা এবং স্বামী হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে হত্যা মামলার প্রধান আসামিরাও রয়েছেন। তাঁরা হলেন—মৃত গোলাম সুলতানের ছেলে আব্দুল মালেক, ইলিয়াসের ছেলে মহি উদ্দিন এবং মোহাম্মদ শফির ছেলে জলাল উদ্দিনসহ এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামি। তাঁদের সবার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী পশ্চিম মহেশখালী পাড়ায়।

নিহত শিক্ষকের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “স্যার, আমার মতো কত অগোছালো মানুষকে আপনি শিক্ষা দিয়ে মানুষ করেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অথচ আপনার হত্যার বিচারের জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। আপনার হত্যার আসামিরা আজও আমাদের সামনে বুক ফুলিয়ে হাঁটে। আমাদের ক্ষমা করে দেবেন, স্যার।”

এলাকার সচেতন মহল, শিক্ষক সমাজ এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি—অবিলম্বে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।